ভারত কি ? বাংলাদেশের সাথে চুক্তি মানে ? মানলেও কতটুকু মানে?

 



#   এক বা একাধির দেশের মধ্যে দিয়ে নদী গেলে .তাতে কি বাঁধ নির্মাণ করা যাই.গেলেও কি কি আইন  মানতে হবে বা ওই সকল দেশের মধ্যে কি ধরনের চুক্তি হতে পারে .নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো :


**1। আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং চুক্তি:


    দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তি: একটি আন্তর্জাতিক নদী ভাগ করে নেওয়া দেশগুলি প্রায়শই নদীর ব্যবহার পরিচালনার জন্য চুক্তিতে আলোচনা করে। এই চুক্তিগুলি কীভাবে জল সংস্থানগুলি ভাগ করা হবে, বাঁধের মতো অবকাঠামো নির্মাণের নিয়ম এবং বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াগুলির রূপরেখা দেয়৷
    উদাহরণ: 1997 সালের জাতিসংঘ কনভেনশন অন দ্য নন-নেভিগেশনাল ইউজেস অফ দ্য ল অফ দ্য নন-নেভিগেশনাল ইউজেস অফ ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটারকোর্সেস সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে, যদিও সব দেশ এর পক্ষ নয়।

**2। পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন:


    ট্রান্সবাউন্ডারি এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (টিইআইএ): দেশগুলিকে অবশ্যই বাঁধ প্রকল্পগুলির সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রতিবেশী দেশগুলিকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে তা মূল্যায়ন করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায়ই জনসাধারণের পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকে।

    প্রশমন ব্যবস্থা: প্রকল্পগুলির জন্য সাধারণত নদী বাস্তুতন্ত্র এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের নেতিবাচক পরিবেশগত প্রভাবগুলি প্রশমিত করার জন্য ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।



**3. পরামর্শ এবং সহযোগিতা:


    বিজ্ঞপ্তি এবং পরামর্শ: একটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাকারী দেশগুলিকে অবশ্যই অবহিত করতে হবে এবং নিম্নধারার এবং সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির সাথে পরামর্শ করতে হবে। এটি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে যে সমস্ত পক্ষ সচেতন এবং সম্ভাব্য প্রভাবগুলি মোকাবেলা করতে পারে৷
    যৌথ ব্যবস্থাপনা: অনেক আন্তর্জাতিক নদী যৌথ কমিশন বা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় যা জড়িত দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার সুবিধা দেয়।

**4. আইনি এবং প্রযুক্তিগত মানদণ্ড:


    প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য: প্রকল্পটি নিরাপদ এবং টেকসই তা নিশ্চিত করতে বাঁধ নির্মাণকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক প্রকৌশল এবং নিরাপত্তা মান পূরণ করতে হবে।
    আইনি কাঠামো: আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা এবং মানদণ্ডের পাশাপাশি জড়িত দেশগুলির জাতীয় আইন ও প্রবিধানগুলি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। 


**5। বিরোধ নিষ্পত্তি:


    দ্বন্দ্ব সমাধানের প্রক্রিয়া: চুক্তিতে প্রায়ই উদ্ভূত বিরোধগুলি সমাধানের বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্বারা আলোচনা, মধ্যস্থতা, বা সালিশ জড়িত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাঁধ প্রকল্পের উদাহরণ:

    গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধ (GERD): নীল নীল নদীর উপর অবস্থিত, এই প্রকল্পটি ইথিওপিয়া, মিশর এবং সুদানের মধ্যে পানির অধিকার এবং বাঁধ অপারেশন সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে।
    সর্দার প্যাটেল বাঁধ: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রবাহিত নর্মদা নদীর উপর অবস্থিত, এটি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় পরীক্ষা এবং আলোচনার বিষয়।









**এখন আশা যাক:

বাংলাদেশের সাথে ভারত কি ধরনের আচরণ করছে । তারা তাদের মতো করে যদি ব্যবহার করে , কোনো চুক্তি তারা মানে না। তাদের সুবিধা মতো কাজ করে .যেমন টা
 করে সীমান্ত হত্যার সময় । . 
 
আবার নদীতে আসি , নদী বাংলাদেশের জন্য বেঁচে থাকার প্রথম উপায় .. কেননা এই নদীতে বাংলাদেশ এর খাবার পানি এবং ফসলী জমির সেচের প্রধান উপায়।



.
নদীর উজান ভারতে হওয়ায় .তারা তাদের অংশে বাঁধ নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের সাথে তাদের দিপাক্ষিক সম্পর্ক খারাপ হওয়ার দিকে।যদি তারা মনে করে এভাবেই চলবে তাহলে আমাদেরকেও ওই ভাবের কাজ করতে হবে । 

শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে ভারতের সাথে যে সব চুক্তি হয়েছে কিংবা সমঝোতা স্মারক তার কোন বিস্তারিত জনগণের সামনে উপস্থাপন তারা কখনোই করেনি । আশা করব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিষয়ে সচেষ্ট হয়ে নিজ দায়িত্বে এ বিষয়গুলো খোলাসা করবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করবে । ভারতকে  নদী বিষয়ে, চুক্তির সব পয়েন্ট মানতে হবে .. না মানলে মানানোর ব্যবস্তাকরতে হবে।  । 








Post a Comment

Previous Post Next Post